
কপালকুণ্ডলা। সেই নারী, যাকে সমাজ গ্রহণ করার আগে বদলে ফেলতে চেয়েছিল।
আচ্ছা, একজন নারী যদি সমাজের তৈরি করা নিয়ম না জানে, তাহলে সে কি অসভ্য? নাকি সে এখনো আমাদের তৈরি খাঁচায় ঢোকেনি?
কপালকুণ্ডলা অবশ্যই বঙ্কিমচন্দ্রের শ্রেষ্ঠ প্রেমের উপন্যাসগুলির মধ্যে অন্যতম একটি। তবে শুধুই এটিকে প্রেমের উপন্যাস হিসেবে পড়লে এর অন্তর্নিহিত বৃহত্তর একটি দিক বাদ পড়ে যায়।
কারণ কপালকুণ্ডলা এমন একজন নারী, যে তথাকথিত সমাজের মধ্যে বেড়ে ওঠেনি। তার বেড়ে ওঠা সমুদ্র, অরণ্য, প্রকৃতির মধ্যে। ফলে তার কাছে নারী হয়ে ওঠার social manual ছিল না।
তারপর নবকুমারের সঙ্গে তার জীবনে বিবাহ হলো, সংসার হলো, কিন্তু শুরু হলো আরেক যুদ্ধ।
প্রকৃতির কপালকুণ্ডলা বনাম সমাজের প্রত্যাশিত স্ত্রী।
সমাজ তাকে তার নিজের রূপে ভালোবাসতে নাকচ করেছিল। তাকে শিখতে হয়েছিল কীভাবে কথা বলতে হয়, সংসার করতে হয়, কীভাবে সমাজের তৈরি করে দেওয়া উপযুক্ত নারী হয়ে উঠতে হয়।
She was given a home, but was she given the freedom to remain herself?
এই উপন্যাসটি ১৮৬৬ সালে লেখা, কিন্তু আজও সমাজ বলে দেয় মেয়েদের কতটা স্বাধীনতা প্রয়োজন, বিয়ের পর একটু মানিয়ে নিতে হয়। ভালো মেয়েরা ঠিক কেমন হয়?
যুগটা modern হয়েছে, but not the conditioning.
